![]() |
| ছবি: উবেদুল্লাহ তালুকদার |
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতন এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক খানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের উপর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য কাড়াবাল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে বদরুল হকের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফারুক আহমদ। এসময় তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক খানের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারনে বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন,আমি কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের কথার পূর্বে গত ২২/১০/২০২০ ও ০৪/০৬/২২ ইংরেজি শতাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষরিত দুটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সভাপতি কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতন বরাবরে দেওয়া হয় কিন্তু কোন প্রতিকার না হওয়ার পরে আমি প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে গত ২০/১০/২০২২ ইংরেজি বিভিন্ন অনিয়ম, জালিয়াতি অর্থ আত্মসাৎ ৪ বছরে হিসাবের গড়মিল ১৭,৩০,২৬০ টাকা সংগঠিত হয়েছে সে কারণে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা, প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী, সরকারি চাকরিজীবী এমন ১২ জন সাক্ষী গনের সহযোগিতায় মামলা নং ৩৪০/২০২২ আদালতে দায়ের করি মামলাটি জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশের তদন্তধীন অবস্থায় প্রায় এক বছর। এই মামলা চলাকালীন সময়ে আরো প্রায় ১০,০০০০০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সংঘটিত হয়েছে এই সময়ে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসেবে কোন টাকা জমা রাখা হয়নি এবং অদ্যবধি টাকা জমা উত্তোলন ব্যয় সকল ক্ষেত্রে নিয়মের নিম্নতম কোন কিছু মানা হয়নি যা অতি সম্প্রীতি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অভিযোগের বিবরণ থেকে প্রতীয়মান হয়।
আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাক্ষাত করলে ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারী এডহক কমিটি অনুমোদন পায়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একান্ত অনাগ্রহের কারণে এ পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদের ৪টি এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হচ্ছেনা।
তিনি আরও বলেন,সর্বশেষ ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ৮ জনের মধ্যে ৭ জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক খাঁনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যানিকেতনের সভাপতি বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের কোন সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ার কারনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে এই দীর্ঘ সময়ে কমিটি বিহীন বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে কোন প্রকার নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে অর্থ আত্মসাত সহ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকদের সাথে অসৌজনমূলক আচরণ করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষের পরিচয় দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে থাকেন।
এসময় কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানানো হয়।
সেই সাথে বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতনের ভূমিদাতা সদস্য বদরুল হক, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, কাড়াবাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য সমাজসেবী শরিফ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল বাছিত চৌধুরী, কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতনের ধর্মীয় শিক্ষক বদরুল আলম, অফিস সহকারী নিয়ামত হোসেন, বিদ্যানিকেতনের ভূমিদাতার পরিবারের সদস্য এনায়েত হুসেন সহ এলাকার গন্যমাণ্য ব্যাক্তি বর্গ।
